সাইকোপ্যাথ | তাসমিমা ইয়াসমিন
#Violence_Alart
কফির কাপে শব্দ করে চুমুক দিলো এলিসা। সে আজ তার ভালোবাসার মানুষের সাথে একান্তে কিছু সময় কাটাতে এসেছে। কফির মগ থেকে ঠোঁট উঠিয়ে সে এরিকের ঠোঁটে ঠোঁট ডুবিয়ে দিলো। সে পরেছে হালকা ক্রিম কালারের স্লিভলেস গাউন৷ কার্লি করা চুলগুলো দুপাশে টেনে বেঁধেছে। তাকে স্নিগ্ধ সুন্দর লাগছে। এরিক টের পেলো এলিসার চুল থেকে মিষ্টি একটা গন্ধ আসছে। এরিককে ছেড়ে দিয়ে এলিসা গিয়ে জানালার কাছে দাঁড়ায়। লনের দিকে চোখ পরে যায় তার। সেখানে বড় একটা ব্লাক হাউন্ড ঘোরাফেরা করছে। এলিসা প্রথম প্রথম কুকুরটাকে ভয় পেতো কিন্তু এখন কুকুরটা ওকে চেনে। ও কাছে গেলে মাথা নুইয়ে দেয়। এলিসা হাত বুলিয়ে আদর করে।
বাহিরে প্রচুর রোদ। জানালা থেকে গরম বাতাসের হলকা এলিসার চোখ মুখ ঠোঁটে লাগে। এরিক পেছন থেকে জড়িয়ে ধরলো এলিসাকে। এলিসার মনে হলো হালকা মাথা ধরেছে ওর। এরিক জিজ্ঞেস করলো, "তুমি আমাকে খুব ভালোবাসো তাই না এলিসা?"
এলিসা মিষ্টি হাসে। ছোটো শব্দ করে বলে, "খুউব ভালোবাসি এরিক। আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি।"
"আমার জন্য নিজের জীবন দিতেও পারবে?"
এলিসা চমকে পেছনে এরিকের দিকে ঘুরে দাঁড়ায়। চোখে চোখ রেখে বলে, "ভালোবাসার মতো ভালোবাসলে জীবন দিতেও পারবো।"
এলিসার হঠাৎ করে চারপাশ অন্ধকার লাগে। ঢলে পরে যায় এরিকের বুকে। এরিক তাকে পাঁজোকোলে করে এনে বিছানায় শুইয়ে দেয়। তারপর আর কিছুই মনে নেই এলিসার।
এলিসার চোখেমুখে পানির ছিটা পরলো। যখন চোখ খোলে তখন সে নিজেকে আবিষ্কার করে অন্ধকার একটা রুমে। হাত পা নাড়াতে গিয়ে। আবিষ্কার করে চেয়ারে হাত পা বাঁধা। এমনকি মুখেও স্কচটেপ লাগানো। চারপাশ থেকে বিকট ও বিশ্রী গন্ধ আসছে। অন্ধকারে সে বুঝতে পারছে না কোথায় আছে। হঠাৎ আলোতে চোখ ধাঁধিয়ে গেলো। এলিস তার দিকে ধীরপায়ে এগিয়ে আসছে। হাতে একটা বক্স। চোখের ইশারায় বলছে এরিককে স্কচটেপ খুলে দিতে।
এরিক ঠান্ডা একটা হাসি দিলো। এলিসার সামনে একটা টেবিল রাখা আর পুরো ঘরটা ফাঁকা। এরিকের হাসি দেখে এলিসার হৃদপিণ্ড ভয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে। সে বুঝতে পারছেনা তাকে বেঁধে রাখা হয়েছে কেনো। তবে এখন বুঝতে পারলো কফিতে কিছু মেশানো ছিলো যার জন্য সে সাময়িক জ্ঞান হারিয়েছিলো।
এলিসার সামনে এসে ঝুঁকে বললো, "ওয়েলকাম টু মাই টর্চার সেল।"
এলিসা চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে রইলো।
এরিক আবার বললো, "এত অস্থির হচ্ছো কেন প্রিয়তমা, খুলছি তোমার স্কচটেপ।"
তার আগে শোনো তখন কী যেন বলেছিলে, আমার জন্য জীবন ও দিতে পারবে। আমার ওটাই বেশী প্রয়োজন।" এরিকের আবার সেই হৃদয় এফোড় ওফোড় করা ঠান্ডা হাসি।
এবার সে এলিসার চেয়ারের হাতলের উপর এলিসার মসৃণ গোল হাতের দিকে তাকালো। দুহাতই হাতলের সাথে বাঁধা। এরিক ওর ব্যাগ থেকে একটা পিনের বক্স আর একটা হাতুড়ি বের করলো। একটা পিন নিয়ে এলিসার বাম হাতের আঙুলের উপর রেখে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করলো। এলিসা চিৎকার করতে চাইলেও মুখ দিয়ে কোনো শব্দ বের হলো না। শুধু চোখ দিয়ে দরদর করে পানি পরছে।
এরিক শীষ দিতে দিতে একটা একটা করে পেরেক এলিসার হাতে গাঁথতে লাগলো। তারপর একটা একটা করে নখ উঠাচ্ছে এলিসার আর ও প্রচন্ড যন্ত্রণায় কুঁকড়ে যাচ্ছে।
এরিক এবার এলিসার মুখের স্কচটেপটা খুলে দিলো।
সে ভেবেছিলো এলিসা চেঁচামেচি করবে। এলিসা দেখতে ভীষণ মিষ্টি আর ইনোসেন্ট হলেও ভীষণরকম বদরাগী। কিন্তু এলিসা খুব করুন গলায় বললো, "এরিক প্লিজ ছেড়ে দাও আমাকে। আমি বাঁচতে চাই। আমি এসব কাউকে কিছু বলবোনা। প্লিজ এরিক প্লিজ। ভালোবাসতাম আমি তোমায়।"
"কিন্তু আমি তোমায় ভালোবাসতাম না এলিসা। আর তোমাকে ছেড়ে দেয়ার জন্য আনিনি।"
ব্যথায় চমকাতেও ভুলে যায় এলিসা। ফোঁপাতে শুরু করে। সে জানে যতই চিৎকার করুক এই নির্জন বাংলো বাড়িতে কেউ শুনবেনা। সে আবার অনুনয় করতে লাগলো, "কেন এমন করছো এরিক। কী দোষ করেছি আমি। প্লিজ একটু দয়া করো। তুমি না আমায় ভালোবাসো।"
এরিক এবার ধমকে চুপ করিয়ে দেয় এলিসাকে। মুখে আবার স্কচটেপ লাগিয়ে দেয়। এলিসার হাতের কবজি থেকে কাঁধ পর্যন্ত ব্লেড দিয়ে সমানে জোরে পোচ দেয় এরিক। তারপর সেখানে লাগিয়ে দেয় লবণ মরিচের গুড়ো। এলিসার ক্রীম কালারের গাউন রক্তে ভেসে যাচ্ছে।
এরিক এবার একটা চিকন রড বের করে। মোমবাতিতে আগুন জ্বালায়। আগুনে রড গরম করতে দেয়। গরম রড ঢুকিয়ে দেয় এলিসার চোখে। এলিসা কাঁটা রুইমাছের মতো ছটফট করতে থাকে। গরম রড দিয়ে এলিসার ফর্সা এলিসার পিঠে ছ্যাঁকা দিয়ে দেয়। এরিনার এবার শুধু নিশ্বাস পরছে। নিস্তেজ হয়ে গেছে দেহ।
এরিক এবার বড় একটা ছুড়ি বের করে এলিসার হৃদপিণ্ড এফোড় ওঁফোড় করে দেয়। তারপরেও শান্ত হয় না। কলিজা বের করে এলিসার। এলিসার ততক্ষণে মৃত্যু হয়ে গিয়েছে। সে এলিসার পুরো দেহ কুচিকুচি করে কাঁটে। তারপর একবার হাসতে থাকে আবার একবার কাঁদে।
হাউণ্ডটা অনেকদিন পরে কাঁচা মাংস খাচ্ছে। কাঁচা মাংস ওর খুবই পছন্দের। ইস এলিসা যখন দোতলা থেকে ওকে দেখে হেসেছিলো ও কি জানতো ও এই হাউণ্ডটার খাদ্য হবে।
এরিক এখন একটা সমাধির সামনে দাঁড়িয়ে আছে। হাতভর্তি জোসেফিন ফুল। ইরিনা চন্দ্রমল্লিকার এই জাতটা খুব পছন্দ করতো না। এরিকের পছন্দ ছিলো না কিন্তু ইরিনা মরে যাওয়ার পরে খুব পছন্দ হয়ে গেছে। ইরিনা এরিকের স্ত্রী ছিলো। আজ ইরিনার মৃত্যুর তিনবছর পর এরিক প্রথম ইরিনার সমাধির সামনে দাঁড়িয়ে কাঁদছে। মনে মনে বলছে, "ইরিনা তোমাকে অন্যায়ভাবে যে এলিসা হত্যা করেছিলো তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি দিয়েছি আমি, এবার তুমি শান্তিতে ঘুমাও প্রিয়।"
#সাইকোপ্যাথ
লেখা: Tasmima Yeasmin

No comments