Attention

আমাদের এই ওয়েবসাইট এ প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান বিষয়ক বিভিন্ন টিউটোরিয়াল ভিডিও এবং পোস্ট দেওয়া হবে এবং গল্প,উপন্যাস,স্ব্যাস্থ সেব সহ আরো অনেক কিছু পোস্ট করা হয়।পাশে থাকবেন ধন্যবাদ

বাইপোকার গল্প "বদনাম" কমিশিনারের ছেলে খুন...! শেষ পর্ব।

#বদনাম
২য় /শেষ পর্ব
.
ম‍্যাসেজ অপেন করে ছবির দিকে তাকাতেই আমার চোখ বড় বড় আকার ধারণ করলো । আমি চমকে উঠলাম । এক প্রকার লাফিয়ে উঠে বসার জায়গা পরিবর্তন করলাম । বিন্দু অবাক হয়ে বারবার বলছে
-স‍্যার কি হলো আপনার ? স‍্যার ! স‍্যার !
বিন্দুর কথা আমার কানে স্পষ্ট যাচ্ছে না। আমি যেন কানে না শোনা এক অন্ধ মানুষ ।
কিছুক্ষণ পর আমি বললাম
-হু !
বিন্দু বলল
-স‍্যার কি হয়েছে আপনার ?
বিন্দুর কথার কোনো উত্তর না দিয়ে রুমনকে কল দিলাম । কিন্তু রুমন কল রিসিভ করছে না ‌। ম‍্যাসেজ দিচ্ছি সিন করছে অথচ রিপ্লাই দিচ্ছে না । কি আশ্চর্য ব‍্যপার ! রুমন এমন করছে কেন আমি বুঝতে পারলাম না । আমি রুমনকে বেশ কয়েকবার কল দিলাম । কিন্তু রুমনের কোনো উত্তর নেই । কি হলো রুমনের ? আমি আবার ফোনের স্কিনে ছবির দিকে তাকালাম । আমার চোখে আবারও অবিশ্বাস্য ভাবে লুপ্ত হলো । ছবিতে দুটি ছেলের ছবি স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে । দুজনেই গাছের ডালে ঝুলছে । গলায় রশি প‍্যাঁচানো । এবং ছেলে দুজনের একজনকে খুব স্পষ্ট ভাবে চিনতে পারলাম । কমিউশনারের ছেলে । কিন্তু আর একজনকে কখনও দেখেছি বলে মনে হচ্ছে না । ছবিতে আশেপাশের স্থানটাও আমার খুব পরিচিত । একটু ভাবতেই মনে স্পষ্ট ভেসে উঠলো এটা তো রুমনের বাড়ির আশেপাশের কোথায় হবে ! হ‍্যা !
হঠাৎ বিন্দুর কথায় আমার ভাবনার ছেদ ঘটলো ।
-স‍্যার আজকের খবর জানেন ?
আমি অবাক হয়ে বললাম
-কিসের খবর ?
বিন্দু হেসে বলল
-আপনি কি দেশের কোনো খবরই রাখেন না ?
আমি কিছুই বললাম না । বিন্দু আবার বলল
-আমাদের এলাকার কমিউশনারের ছেলে আর তার একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে পুরুষ অঙ্গ কেটে ফাসিঁ দিয়ে কারা যেন খুন করেছে । এই নিয়ে সকাল থেকে কত সংবাদ প্রচারণা হচ্ছে অথচ আপনি এর কিছুই জানেন না ?
বিন্দুর প্রতিটি কথায় আমার অবাক করতে বাধ্য করছে । বিন্দুর কথা ছবির সাথে মিলে যাচ্ছে । তারমানে কাহিনী দুটোই একটা ।
কিন্তু চিন্তার বিষয় হচ্ছে রুমন ফোন তুলছে না কেন ? আর এই কমিউশনারের ছেলেকে খুন করলো কে ? কার এত সাহস । রুমন খুন করেনি তো ? রাগের বশে করতেও পারে । আমার সারা শরীর শিউরে উঠলো । রুমন যদি সত্যিই খুন করে তাহলে তো ওর চরম বিপদ ।
আমার কি একবার রুমনের বাসায় যাওয়া উচিৎ !
-স‍্যার আপনি কি কোনো বিষয়ে চিন্তিত ?
বিন্দু বাববার আমার ঘোর ভাঙতে সাহায্য করছে । আর আমি মেন্টালি হ‍্যারেজ হচ্ছি । আমার এই বিরক্তিকর মনোভাব বিন্দুর সামনে ফুটিয়ে তোলা একদম ঠিক হবে না ।
-বিন্দু , এক গ্লাস পানি দাও তো ।
বিন্দু কেমন রহস্য করে বলল
-স‍্যার গ্লাসে তো পানি আছেই । আপনি কি ঠাণ্ডা পানির কথা বলছেন ? ফ্রিজ থেকে এনে দেব ?
আমি গ্লাসে তাকিয়ে দেখলাম , তাইতো ! গ্লাসে পানি আছে অথচ আমি খেয়াল করিনি । বিষয়টি ক্রমেই নাগালের বাইরে যাচ্ছে । কমিউশনারের ছেলেকে খুন করা যেন তেনো ব‍্যপার না । একটা সাংঘাতিক ব‍্যপার ।
-বিন্দু আজ শরীরটা ভালো না । আমি বরং বাসায় যাই ।
বিন্দু আমার শরীরে হাত দিয়ে বলল
-স‍্যার আপনার কি জ্বর ! নাতো , জ্বর নেই ,শুধু শুধু ঘামছেন কেন ?
আমি কিছু না বলে বাসা থেকে বের হলাম । আমার গন্তব্য রুমনের বাড়ি ।
রুমনের বাড়ির একটু এই পাশে অনেক লোকজন জট পাকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে । আমি খেয়াল করে দেখলাম রুমনের পাঠানো ছবির ব‍্যকরাউন্ডের সাথে এখানে অনেকটুকু মিল । যা ধরেছি তাই । কমিউশনারের ছেলে আর তার বন্ধুকে পাশাপাশি শুয়ে রাখা হয়েছে । না এখন আর সে মানুষ নেই । এখন সে লাশ নামধারী !
পুলিশ খুব কঠিন ভাবে পাহাড়া দিচ্ছে । একজন পুলিশ ইশারা করাতে , কয়েকজন পুলিশ মিলে লাশ দুটোকে এ্যাম্বুলেন্সে তুলতে ব‍্যস্ত হয়ে পড়লো । আমি আর দাঁড়িয়ে থাকলাম না । আমার রুমনকে প্রয়োজন । ওর কাছে আমার অনেক কিছু জানার বাকি । আমার কেন জানি মনে হচ্ছে রুমন কোনো না কোনো ভাবে এর সাথে জড়িত । আমি রুমনের বাসায় যেয়ে দেখলাম বাসার দরজা খোলা । কিন্তু ভিতরে কেউ নেই । তাহলে ওরা গেল কোথায় ? কমিউশনারের ছেলেকে খুন করে রুমন পালায়নিতো ? রুমনের প্রতি আমার সন্দেহ ক্রমেই ঘনত্ব লাভ করতে শুরু করলো । অনেক বার ডাকার পরেও কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে বের হয়ে আসছিলাম । তখনই ফোনটা বেজে উঠলো রুমন কল দিয়েছে ,
আমি তটস্থ হয়ে বললাম
-রুমন তুই কোথায় ? আমি তোদের বাসায় এসে কাউকেই পাচ্ছি না । কি হলো কথা বল !
কিছুক্ষণ আগে রুমন যতটা আনন্দে কথা বলেছিলো এখন ঠিক তার বেশি বেদনাদায়ক সুরে বলল
-আমি হসপিটালে ।
রুমনের কথা শুনে আবার অবাক হলাম । আমার সাথে এসব কি হচ্ছে ? ভাবছি এক অথচ হচ্ছে আর এক ! আমি আর দেড়ি করলাম না ‌ । রুমনের দেওয়া ঠিকানাতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম । কি হয়েছে এটাও শোনার মতো অবস্থায় আমি নেই । সবটা হসপিটালে যেয়ে জানবো ।
হসপিটালে যেয়ে জানতে পারলাম , প্রিতি সুইসাইড করেছে । একটুর জন্য বেঁচে গেছে । সময় মতো হসপিটালে নেওয়ার কারণে প্রিতি এখনও বেঁচে আছে । প্রিতি হঠাৎ সুইসাইড করবে কেন আমি বুঝলাম না । আচ্ছা প্রিতি কমিউশনারের ছেলের খুন হওয়ার কথা শুনে সুইসাইড করেছে নাকি তার আগেই ? মনে উত্তর বিহীন একটা প্রশ্ন দোলা দিল । আমি রুমনের কাছে গেলাম । উত্তরটা আমার জানতেই হবে ।
রুমনকে আলাদা একপাশে ডেকে নিয়ে বললাম
-প্রিতির এই ঘটনা কখন হয়েছে ? কমিউশনারের ছেলের খুন হওয়ার আগে না পরে ?
রুমন প্রচণ্ড মন খারাপ করে আছে । কথা বলতে ইচ্ছে করছে না। বলল
-প্রিতি খবর শুনার পরই সুইসাইড করতে গেছিলো ।
-কেন ? ওর সাথে যা হয়েছে তার তো একটা বিচার আপনাআপনি হলো । এখন আবার সুইসাইড করার কোনো দরকার হয় ? অপরাধী শাস্তি পেয়েছে এটা ভেবেও তো বেঁচে থাকা যায় । জীবনে একটা দুর্ঘটনা ঘটলেই জীবনকে শেষ করে দিতে হবে এমনটা নয় ।
রুমন বলল
-সেটা প্রিতিকে বলিস !
আমি আশেপাশে তাকিয়ে খুব সিরিয়াস কণ্ঠে বললাম
-আচ্ছা রুমন , এই খুনের সাথে তুই কোনো ভাবে জড়িত না তো ? কমিউশনার কিন্তু খুব ক্ষমতাবান মানুষ । এর বিচার করেই ছাড়বে ।
রুমন তাচ্ছিল্য করে হেসে বলল
-না রে , আমি এর সাথে জড়িত নেই । কিন্তু সত্যি কি জানিস , আমি যদি সুযোগ পেতাম তবে যারা খুন করেছে তাদের সাথে যোগ দিতাম ‌ ।
রুমনের কথায় ভালো একটা পয়েন্ট ভেসে উঠলো । কারা খুন করেছে ?
-আচ্ছা রুমন ,বলতো কার এত বড় দুঃসাহস যে কমিউশনারের ছেলেকে খুন করে !
রূমন ছোট করে বলল
-জানিনা ।
প্রিতিকে চারদিন হসপিটালে রাখা হবে । তারপর রিলিজ দেবে । আমি প্রতিদিন একবার করে হসপিটালে যাই । প্রিতি এখনও কথা বলছে না । গলায় সমস্যা হয়েছে । আমি বুঝিনা । ছেলে মেয়েরা কেন যে আত্মহত্যার মতো মহাপাপ করতে যায় ।
আজ বেশ কয়েকদিন হলো বিন্দুকে পড়াতে যাই না । আশ্চর্য হলেও সত্যিই , এই প্রথম বিন্দু আমাকে পড়া মিস দেওয়ার জন্য ফোন করেনি ।
আমি বিন্দুর বাসায় যেয়ে অনেকটা অবাক হলাম । বাসায় তালা ঝুলানো । বিষয়টি আমি ঠিক বুঝে উঠার আগেই বাড়িওয়ালা চাচা আমার হাতে একটা চিঠির খাম ধরিয়ে দিল । আমি বললাম ,
-চাচা ওরা কোথায় ? তালা ঝুলানো !
চাচা আমাকে থামিয়ে দিয়ে বললেন ,
-চিঠিতে সব লিখা আছে ।
আমি চিঠিটা খুলে পড়তে শুরু করলাম ।
প্রিয় স‍্যার,
নতুন করে গুছিয়ে বলার মতো কোনো কথা নেই । কিন্তু হৃদয়ের অন্তিমেও একটা ছোট নাম লিখা আছে । যা হয়তো কখনও স্পষ্ট বলা হবে না । হয়তো বলতে মানা । অস্পষ্ট কোনো কিছুই ঠিক ভালো হয় না । তেমন আমার জন‍্যও ভালো হবে না ।
যাইহোক , যে প্রশ্ন গুলো আপনার মনকে দগ্ধ করছে তার উত্তর দিই । আমরা চলে এসেছি । আমাদের কাজ শেষ । হ‍্যা , আমি আর রুপু বোন না , আমরা দুজন গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তা । কলিগ । এখানে একটা অপারেশনে এসেছিলাম । কিন্তু তা সাকসেস হয়নি । যাকে ধরার জন্য এসেছিলাম সে এখন ডুবায়তে । তাই আমাদের আর এখানে থাকার প্রয়োজন নেই । তাই চলে যেতে হবে । তবে যাওয়ার আগে একটা ভালো কাজ করেছি । এটা অবশ্য আমাদের গোয়েন্দা রুলসের মধ্যে ছিল না । কিন্তু বিবেক মানছিলো না । তাই কমিউশনারের ছেলের খুনটা করতে বাধ্য হয়েছি । হ‍্যা খুনটা আমরা দুজন মিলে করেছি । এখন হয়তো ভাবছেন তাহলে , আপনাকে টিচার হিসাবে কেন রাখলাম ? আমাদের পড়াশোনার অভিনয় কেন করলাম ? বুঝলেন স‍্যার , সিনেমা তো শুটিং কেটে কেটে তৈরি করে । কিন্তু আমরা বাস্তব সিনেমা করি । এটাই আমাদের কাজ ।কিন্তু , অভিনয়ের মাঝে কখন যে প্রেমের মাঝে বন্দী হয়ে গেছি জানিনা । তবে স‍্যার , আপনি খুব ভালো মনের একজন মানুষ । আপনার সাথে ভালো কিছুই হবে । সবিশেষ একটা দীর্ঘশ্বাসের পাতা রেখে যাওয়া ছাড়া , আপনার সাথে বাকী জীবন কাটিয়ে দেওয়ার স্বপ্ন পূরণ হলো না ।
ইতি ,
-----বিন্দু
বিন্দুর চিঠিটা পরে আমি সত্যিই খুব আপসেট হয়ে গেলাম । ওরা এতদিন আমার সাথে অভিনয় করে গেল তবুও আমি কিছুই বুঝতে পারলাম না !
বিন্দুর বাসা থেকে সোজা হসপিটালে গেলাম । রুমন আর আন্টি প্রিতির পাশে বসে আছে । দুয়েকটা কথা বলছে ।আমি রুমে ঢুকলাম । প্রিতি কেমন করে তাকালো । আজকের চাহনিতে অঢেল পরিবর্তন ।
-আচ্ছা প্রিতি , তুমি সুইসাইড কেন করতে গেলে বলো তো ? খারাপদের বিচার হবেই । হয়েছেও তো । তারপরও কেন ?
প্রিতি আস্তে করে বলল
-একজন মানুষ মারা গেলেই তার খারাপ কাজের অন‍্যর উপর পড়া প্রভাব মুছে যায় না । আমার যে ক্ষতি হয়েছে তা তো আর মুছবে না কোনোদিন ।
প্রিতির চোখে জল । কষ্টের সাগরে মেয়েটা ভাসছে ।
-তাই বলে এই নয় বেঁচে থাকা যাবে না ।
প্রিতি ঝাঝালো কণ্ঠে বলল
-এসবের আপনি কি বুঝবেন ? আমি আর কোথাও যেতে পারবো না । কলেজে পরিচয় দিতে পারবো না । হুম ধর্ষিতার আবার পরিচয়। আমার বিয়ের জন্য পাত্র আসবে না । যদিও আসে , ধর্ষিতা কথা শুনেই পালাবে । এই জীবনে তীরস্কার ছাড়া কিছুই নেই ।
-আছে , তোমার খুব ভালো ঘরে বিয়ে হবে । এবং ছেলেটাও খুব ভালো হবে । দেখো ।
প্রিতি তাচ্ছিল্য করে বলল
-ভালো ঘর , আমার মতো মেয়েকে আপনি করবেন বিয়ে ? বলেন করবেন বিয়ে ?
আমি অবাক হয়ে বললাম
-প্রিতি আমি তোমাকে কখনও আপন বোনের চেয়ে কম দেখিনি । তুমি এসব কি বলো ?
-আপন বোনের চোখে দেখেন , আপন বোন তো আর না ? তাহলে বিয়ে করতে সমস্যা কোথায় । শোনেন , দুয়েকটা জ্ঞানের কথা সবাই বলতে পারে ।
আমি আর রুমে থাকতে পারলাম না । বাইরে বের হয়ে আসলাম । বারান্দায় এসে মাকে ফোন দিয়ে বললাম
-মা , আমি বিয়ে করেছি । সব আয়োজন করো ।
মা কিছু বলার আগেই আমি লাইন কেটে দিলাম ।
পিছু ঘুরে দেখি , রুমন দাঁড়িয়ে আছে । কিছুক্ষণ নিস্তব্ধতার পর , রুমন আমাকে জড়িয়ে ধরলো ।রুমনের পিঠ চাপড়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লাম ।
(সমাপ্ত)
সকল ঘটনা কাল্পনিক । কারো জীবনের সাথে মিলে গেলে লেখক দায়ী নয় ।
.
#
লিখা--মিনহাজ মাহমুদ।

No comments

Theme images by RASimon. Powered by Blogger.