Attention

আমাদের এই ওয়েবসাইট এ প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান বিষয়ক বিভিন্ন টিউটোরিয়াল ভিডিও এবং পোস্ট দেওয়া হবে এবং গল্প,উপন্যাস,স্ব্যাস্থ সেব সহ আরো অনেক কিছু পোস্ট করা হয়।পাশে থাকবেন ধন্যবাদ

একটি রহস্যময় গল্প ||ব-রহস্য || mystery Novel,

ব- রহস্য

বর্ণ লিন্ডার দিকে তাকিয়ে শুধুমাত্র একটা মুচকি হাসি দেয়।
এবং বলে,
" জিওমেন্সি সম্পর্কে আমিও রিসার্চ করেছিলাম। কিন্তু বেশিদূর এগোতে পারিনি। " বলতে বলতেই লিন্ডার বিছানার পাশে বসে। " তোমার শরীর কেমন আছে লিন্ডা?"
বর্ণের প্রশ্নের
কোন উত্তর না দিয়ে নির্বিকার হয়ে লিন্ডা তাকিয়ে থাকে। বর্ণ লিন্ডাকে আর বেশিব বিরক্ত না করে উঠে পরে। ওর মনের অবস্থা ভাল নয়। কথা বলার চেষ্টা করাটাও নিরর্থক।
লিন্ডার বাবার মৃত্যু, সাঞ্জের মৃত্যু তার আগে ওর প্রেমিক দের মৃত্যুগুল যেন একই সূত্রে গাঁথা।
বর্ণ জিওম্যান্সি নিয়ে আবারো ঘাঁটতে শুরু করে।
 জিওম্যান্সি হলো এমন এক প্রক্রিয়া যা দ্বারা ভবিষ্যৎ বর্ণনা করা হয়। এ জন্য মূলত মাটির উপরে কিছু  প্যাটার্ণ আঁকতে হয় এবং এক মুঠো পাথর বা বালি দ্বারা সেই  প্যাটার্ণের উপরে টস করতে হয়। ভবিষ্যৎবানী করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে সফল জিওম্যান্সি হলো ১৬ ফিগারের একটি প্যাটার্ন যা এলোমেলো পদ্ধতিতে মাটির উপরে আঁকা থাকে এবং একটার সাথে অপরটি পুনারাবৃত্তি প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকে। জিওম্যান্সি তে মূল কাজ হলো সংখ্যা নিয়ে।
"সংখ্যা" জিনিসটি,
 যারা যুক্তিবাদী, যারা লজিক নিয়ে চর্চাকরেন, যারা উচ্চতর গণিত চর্চা করেন, যারাউচ্চতর পদার্থবিদ্যা বা কোয়ানটাম ফিজিস্ক নিয়েচর্চা করেন, বা যারা অর্থনীতি বা কমার্স নিয়ে চর্চাকরেন, তাদের এক এক জনের  কাছে এক এক রকম মানে বহন করে।আর যারা অকাল্ট বা গুপ্ত বিদ্যা চর্চা করেন, যারা মিষ্টিক বা রহস্য বিদ্যা চর্চা করেন, যারাঅতীন্দ্রীয়বাদী বা সাইকিক, এদের কাছে সংখ্যা আবার ভিন্ন এক ভাবে প্রতিভাত হয়।

সংখ্যার প্রাধানত দু’টি দিক, একটা যুক্তিবাদী দিক, অন্যটা হল রহস্যবাদী।

একজন জোত্যিষি জিওমেন্সি দ্বারা বের করেছিলেন মানুষের জন্মতারিখের সাথে মিলিয়ে সে কিসে ভয় পায়। ব্যাপারটা আধিকাংশ ক্ষেত্রে সত্য হওয়ায় তখনকার দিনে বেশ সোরগোল ফেলে দেয়। তার প্রতিবেদন টি নিম্নরূপ ;

১-উচ্চস্থান থেকে পতন।

২, ১১, ২১- গভীর জল বা সমুদ্র।

৩, ১২, ২১- কুকুর, শৃগাল জাতীয় পশু থেকে।

১০- মহাশূন্য বা প্রান্তর থেকে।

১৯- বিড়াল জাতীয় প্রাণী থেকে।

২৮-বন্ধু বা আত্মীয়-স্বজন থেকে।

৪, ১১, ২২- নিঃসঙ্গতার ব্যাধি থেকে।

৩১- জনতার রোষ থেকে ভীতি।

২৯— মৃত্যুভয়।

৩০- অসুখ হলে বা রোগ হলে কে দেখবে!

৭, ১৬, ২৫- নারীর বা স্ত্রীলোক দ্বারা সম্মানখোয়ানো।



৮, ১৭, ২৬, -অস্ত্র, প্রস্তরখণ্ড দ্বারা আঘাত, মস্তিস্কে রক্ত ক্ষরণ।

বিখ্যাত বিজ্ঞানী ইয়োহানেস কেপলারও একই সাথে জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং জ্যোতিষী ছিলেন।তিনি ছাড়াও অনেকে বিজ্ঞানী এ জিওম্যান্সি নিয়ে কাজ করেছেন।
অপবিজ্ঞানে 'জ্ঞানী' যাদুকরদের অপর এক বিশ্বাস- মহাবিশ্ব সম্পূর্ন নাম্বার এবং কমপ্লেক্স জিওমেট্রিক প্যাটার্ন দ্বারা তৈরি। আর এসবের বিল্ডিং ব্লক হচ্ছে চারটি প্লেটোনিক সলিড তথা পানি, বায়ু,আগুন ও পৃথিবী। একদম সস্তা তান্ত্রিক-যাদুকররাও এ থিওরির  সাথে ভালভাবেই পরিচিত।

 'অকাল্ট নলেজ' অনুযায়ী এই রিয়েলিটি ইল্যুশন। ফিজিক্যাল সকল ম্যাটারই কালেক্টিভ কনসাসনেসের অংশ। ইউনিভারসাল কালেক্টিভ কনসাসনেসের ড্রিম(হলোগ্রাফিক সিমুলেশন) বা কল্পনাই হচ্ছে আমাদের রিয়েলিটি। ওরা এও বলে যে, এই ইল্যুশন-রিয়েলিটির ম্যাটারের ক্ষুদ্রতম স্তরটি ইনফরমেশন দ্বারা পরিপূর্ণ। এদের কেউ বলে, একদম বাইনারী ডিজিট দ্বারা পরিপূর্ণ।এই বাইনারী ডিজিট থেকে ইনফরমেশন গুল সংগ্রহ করলেই একজন মানুষের ভবিষ্যৎ, মন বা মস্তিষ্ক পড়া সম্ভব।
 ১৮৬৫ সাল, জার্মানিতে সে বছর তীব্র শীত পড়েছে।বিজ্ঞানী অগাস্ট কেকুল গভীর রাতেও আগুনের পাশে বসে বেনজিনের গাঠনিক সংকেত নিয়ে কাজ করছেন। মাসের পর মাস কাজ করেও কূলকিনারা করতে পারছেন না কোনোক্রমে। প্রতিদিনের মতোই কাজ করতে করতে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেদিন হঠাৎ স্বপ্নে দেখলেন একটি সাপ নিজেই গোল হয়ে তার লেজকে খেয়ে ফেলছে। ঠিক যেন প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতায় ব্যবহৃত এক প্রতীক ‘অরোবরোস’-এর মতো দেখতে।

স্বপ্নেই যেন তাকে কেউ বলে দিচ্ছিল বেনজিন দেখতে অনেকটা এইরকমই হবে। ঘুম থেকে জেগে উঠেও বিজ্ঞানী কেকুল অনেকটা আর্কিমিডিসের ইউরেকা ইউরেকা করার মতই আউরে যাচ্ছিলেন, “It’s a ring. The molecule is in the form of a ring.”
সুতরাং স্বপ্নে এরকম সমস্যার সমাধান পাওয়া এবং অনেক সময় ভবিষ্যৎ দেখতে পাওয়াটা অলৌকিক হলেও অস্বাভাবিক নয়।
কিন্তু লিন্ডা এ অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী, এবং তার ডায়েরীতে যেহেতু জিওমেন্সি ১৬ টি ফিগারের ৭ টি ফিগার পাওয়া গিয়েছে,সুতরাং বলা যায় লিন্ডা জিওমেন্সি প্রাক্টিস করে। তবে এটা একটা নিষিদ্ধ আর্ট, অর্থাৎ কোন ধর্মেই এ আর্ট অনুশীলন এর অনুমোদন নেই।
.
.
.
এসব নিয়ে ভাবতে ভাবতে অনেক বেলা হয়ে আসে। তাইসন বর্ণের কাছ থেকে বিদায় নিতে চায়। প্রতিদিন বিভিন্ন জায়গা থেকে ছবি তুলে, বিক্রি করে যে টাকাটা পায়, সেটা দিয়েই তাইসনের সংসার চালানোর আর ড্রিংকস করার টাকা উপার্জন হয়। রোজ আনা রোজ খাওয়া যাকে বলে।বর্ণ তাইসনের ফোন নম্বর রেখে তাকে বিদায় দেয়। যাতে কাজে লাগলে তাইসন কে আবার খবর দিতে পারে সে।

সেদিন বিকেলে পুলিশ আসে লিন্ডার বাসায়। লাশের তদন্ত শেষ হয়েছে। লাশ হস্তান্তর এবং দাফনের জন্য বন্দোবস্ত করতে বলা হয়  লিন্ডাকে। তালা বদ্ধ রুমটাও তারা খুলে দিয়ে যায় নিজ দায়ীত্বে। পুলিশ দুজন তাদের নোটিশ দেয়ার কাজ শেষে চলে যায়। লিন্ডার শরীর ভাল যাচ্ছে না, কোন রকমের খেয়ে চুপ করে শুয়ে আছে। কাজের বুয়াটাও রান্না করে দেয়ার পরে চলে গিয়েছে। বর্ণপায়চারী করতে করতে  জাকির সাহেবের রুমে প্রবেশ  করে। সেদিনের তাইসনের ছবিতে বর্ণ  কক্ষটি যে রকমের দেখেছিল,বাস্তবে আর সেরকম দেখতে পেল না।
 চারদিকের জিনিসপত্রগুল ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।রুমের ভেতরের গোছানো সব জিনিসপত্র ফেলে দিয়ে  কেউ যেন কিছু একটা খুঁজেছে এমন একটা অবস্থা। খাটের এক কোনে একটা কাগজ দুমড়ে মুচড়ে আছে।
সেটায় কি লেখা থাকতে পারে, সে  সম্পর্কে আগেই ধারণা ছিল বর্ণের।
"1,2,4,7
1,5,5,4,4,
3,3,6,2
It's pleasant to die."
লেখাটা দেখে এবার একটু খটকা লাগে বর্নর, জাকির সাহেবের হাতের লেখার সাথে চিরকুটের লেখাটার বড্ড অমিল। এমনকি দেখে মনে হচ্ছে লেখাটা বাম হাতের। কারণ ডান হাতে লিখলে সাদা ফকফকে কাগজে হাতে ঘামানো ছাপটা  বাম দিকে থাকত না। সেটা থাকত ডান পাশে। কায়াকতালীয় ভাবে লিন্ডাও বামহাতে লেখে। বর্ণ
রুমের ভিতরের খুঁটিনাটি খতিয়ে খতিয়ে দেখতে থাকে। একটা বুকশেলফ আছে,সেখানে কিছু বই,টেবিলের পাশে ক্যামেরা, বিভিন্ন ধরণের দরকারি, শৌখিন  জিনিসপত্র। রুমে কোন ধরণের লকার বা এ জাতীয় কিছু রয়েছে কিনা তা খুঁজে বের করা চেষ্টা চালাচ্ছিল সে। বেশ অনেকক্ষন খুঁজেও উল্লেখযোগ্য কিছু না পেয়ে  সোফায় গিয়ে গা এলিয়ে দেয়। রহস্যের সমাধান করতে হলে লিন্ডার রহস্য উদঘাটন করতে হবে। কেন ওর শরীর এত ভারী। ও জিওম্যান্সি শিখে কেন! আরো নানা প্রশ্ন। যতদূর বোঝা গিয়েছে লিন্ডা এগুলো সম্পর্কে বর্ণকে কিছুই বলবে না। সুতরাং লিন্ডার মনে কি চলছে বা লিন্ডা কি ভাবছে সেটা জানতে হলে ওর মন এবং মস্তিষ্ক পড়তে হবে।
কিন্তু সেটা সম্ভব কিভাবে!!
উত্তর দুটো..

১, সাইকিক পাওয়ার।
২, হিপনোটিজম।
সাইকিক পাওয়ার মূলত মানুষের মধ্যে থাকা শক্তিকে (শারীরিক এবং মানসিক) অন্যভাবে এবং অন্য পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার পদ্ধতি।মানুষের সেন্স বা অনূভুতিকে তার সর্বোত্তম ব্যবহারে বাধ্য করা। তার  জ্ঞানের পরিধিকে  শিখরে পৌঁছে দেয়া। কোনো এক বা একাধিক শক্তিতে সর্বোৎকৃষ্ট বানিয়ে দেয়া।

সাইকিক পাওয়ার গুলোর তিনটি মূল ভিত্তি আছেঃ প্রথমত আপনাকে সঠিক ক্ষমতা জেনে নিতে হবে যেটার সাথে আপনি নিজেকে মানিয়ে নিতে পারবেন। তার আগে জেনে নিতে হবে আপনার কোনো সাইকিক ক্ষমতা থাকা সম্ভব কি না।
দ্বিতীয়ত আপনার সঠিক রিসোর্স থেকে শিক্ষা নিতে হবে এবং সঠিক শিক্ষাগুলো সঠিক ভাবে গ্রহণ করতে হবে। এবং তৃতীয়ত আপনার বিশ্বাস থাকতে হবে। এটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি ভিত্তি।
 সাইকিক ক্ষমতা গুলো সবার মধ্যেই বিদ্যমান। কেউ বুঝতে পারে কেউ বোঝে না। আর কেউ বুঝেও তা নিয়ে খেলা করতে চান না। আর কেউ কেউ তো বিশ্বাস ই করেন না। মানুষের সবার মাঝেই সাইকিক ক্ষমতা বিদ্যমান।
আমরা নিজেরাও অনেক সময় সাইকিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে অনেক সুপারন্যাচারাল  কাজ করে ফেলি। যেমন ধরুন লুডো খেলার সময় আপনার ৬ আসছে না। আপনি আপনার মস্তিষ্ক দিয়ে খুব শক্ত ভাবে ভেবে নিলেন আপনি ছক্কাটি মারলেই ৬ চলে আসবে, এবং তখন সেটাই হলো। আমরা আমাদের দৈনন্দিন ছোট খাট এরকম অনেক কাজ সাইকিক ক্ষমতাবলে করে থাকলেও বড় ধরণের কাজ করার সামর্থ রাখি না। এর কারণ আমাদের সঠিক জ্ঞান  এবং রিসোর্স নিয়ে প্রাক্টিস করা হয় না।
সুতরাং বর্ণ সিদ্ধান্ত নেয় সে সাইকিক পাওয়ার নিয়ে কাজ করবে, লিন্ডার জিওম্যান্সির বিরুদ্ধে সাইকিক পাওয়ার দিয়ে কতটুকু লড়াই করা যাবে সেটা নিতান্তই অজানা।
তবুও শুরু তো করতে হবে। একটা কথা আছে, ডেভিলস দের সাথে নড়তে হলে নিজেকেও ডেভিলস হতে হয়, ব্যাপারটা অনেকটা এমন হয়ে গেল, অতিপ্রাকৃত কোন শক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হলে নিজেকেও অলৌকিক কোন ক্ষমতার অধিকারী হতে হবে।
সুতরাং বর্ণ নিজের মনে প্রস্তুতি নিতে শুরু করে এবং মাথা থেকে সকল প্রকার ভাবনা চিন্তা বের করে দেয়। সাথে একটা কাগজ এবং কলম রাখে। যাতে কোন কিছু ঘটতে দেখলে সেটা নোট করে রাখতে পারে। সাইকিক পাওয়ার নিয়ে কাজ করার সময় অন্য কোন  বিষয় নিয়ে ভাবনা চিন্তা করার সুযোগ নেই।  বর্ণ ১১,২২ ও ৩৩ সংখ্যা দ্বারা তার সাইকিক পাওয়ারের গোড়াপত্তন করবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়।
নিউমেরোলজিতে (সংখ্যা বিজ্ঞান) অনন্ত নম্বর বা সংখ্যা রয়েছে। তার মধ্যে মাত্র তিনটি ডবল ডিজিট সংখ্যাকে বেছে নেওয়া হয়েছে। এই সংখ্যাকে ১১=১+১=২ বা ২২=২+২=৪ অর্থাৎ ১১ রিডিউস করে ২ আবার ২২ রিডিউস করে ৪ হয়।
তার কারণ ১১,২২ ও ৩৩ এই তিনটি সংখ্যাতে শক্তি বা পোটেনশিয়ালটি অনেক বেশী যা অন্য সংখ্যাতে নেই। এই তিনটি নম্বারকে সাইকিক্যাল নম্বার বা সংখ্যা বলে। সংখ্যা বিজ্ঞানে বলে প্রতিটি নম্বারের নিজস্ব বিশেষ তাৎপর্য আছে। কিন্তু ১১, ২২ ও ৩৩ এই তিনটি নম্বারে আধিভৌতিক, আধিদৈবিক ও আধ্যাত্মিক রহস্যগত তাৎপর্য অনেক গুণ বেশী যা অন্য সংখ্যাগুলিতে একদম নেই। যে কারণে ১১, ২২ ও ৩৩ সংখ্যা তিনটিকে মাস্টার নম্বার বলে। এই নম্বারগুলি নেপথ্য শক্তি বা সাইকিক পাওয়ার দ্বারা অনেক বেশী চার্জড বা শক্তিপূত। কেউ কেউ এই তিনটি নাম্বার কে ‘এঞ্জেলিক নম্বার’ও বলেন।
তথ্য অধিকারের পক্ষে দুর্দান্ত লড়াইয়ের প্রেক্ষাপটে  প্রায় এক কোটি ত্রিশ লাখ পৃষ্ঠার গোপন নথি অবমুক্ত করতে বাধ্য হয়  মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ)। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি তখন জানায়, সিআইএ তাদের গোপনীয় সোয়া কোটির ওপর সুরক্ষিত নথি এই প্রথমবার সবার জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছে। তথ্য পাওয়ার অধিকার-সংক্রান্ত আন্দোলন কর্মীদের সুদীর্ঘ প্রয়াস এবং সিআইএর বিরুদ্ধে আদালতে মামলার প্রেক্ষাপটে এই গোপন নথিগুলো উন্মোচিত হয়ে পরে।

ফাঁস হওয়া নথির মধ্যে ছিল- গোয়েন্দা ব্রিফিং, গবেষণা প্রতিবেদন, ইউএফও দর্শন ও বিভিন্ন মনোগত পরীক্ষার বিবরণ। রয়েছে রিচার্ড নিক্সন ও জেরাল্ড ফোর্ডের সময়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী হেনরি কিসিঞ্জারের নথিগুলো। এছাড়াও হাজারো পৃষ্ঠার গোয়েন্দা বিশ্লেষণ, বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও উন্নয়নের বিবরণও রয়েছে এতে।  প্রকাশ হওয়া নথিগুলোর মধ্যে আরো রয়েছে ষড়যন্ত্র তত্ত্ববাদীদের বহুল চর্চিত স্টারগেট প্রোগ্রামের বিবরণ। তথাকথিত এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে মানুষের অতীন্দ্রিয় ক্ষমতার বিষয়ে পরীক্ষা করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।

নথিগুলোর মধ্যে সেলিব্রিটি সাইকিক উরি গেলারের ওপর ১৯৭৩ সালের পরীক্ষা-নিরীক্ষার দলিলপত্র পাওয়া যাবে। এতে সংরক্ষিত বিভিন্ন মেমো থেকে জানা যাবে সাইকিক পাওয়ার খাটিয়ে গেলার কীভাবে একটি আলাদা কক্ষে আবদ্ধ থাকা অবস্থাতেও পাশের রুমে বসে গবেষকদের আঁকা একটি ছবির হুবহু প্রতিলিপি তৈরি করেছিলেন সেই তথ্য।
বর্ণ সাইকিক পাওয়ার অর্জনের জন্য প্রথম রিসার্চ শুরু করে দেয় উরি গেলারের দেয়া সেই তথ্যেগুলোর উপর।
বেশ কয়েকদিন পার হয়ে যাওয়ার পরে লিন্ডা ক্রমেই স্বাভাবিক হয়ে উঠে। তবে কথা খুব কম বলে সে। এদিকে বর্ণ সাইকিক ক্ষমতা অর্জনের জন্য প্যারাসাইকোলজি নিয়ে পড়াশুনা শুরু করে এবং প্রয়োজনীয় রিসোর্স সংগ্রহ করতে শুরু করে। লিন্ডার সাথে এর মাঝে কথা খুব কম হলেও একদিন সময় করে লিন্ডাকে বর্ণ জানায়, এ বাসায় সে আর থাকতে চাচ্ছে না।  এ ব্যাপারে লিন্ডা তার আপত্তি পেশ করে। সে জানায় তার সাহায্য প্রয়োজন,সত্য উদঘাটনের জন্য। এমন সময়টায় সাহায্য করার মত লোক বর্ণ ছাড়া আর দ্বিতীয় কেউ নেই। তার বাবা এবং তার প্রাক্তন প্রেমিক দের মৃত্যু একই সূত্রে গাঁথা, এটাও জানায় লিন্ডা।এগুল শুনে বর্ণ লিন্ডার কাছে এবার তার চেপে রাখা কথা গুল বেশ অনেকাংশ ই প্রকাশ  করে ফেলে। লিন্ডাকে অনেকটা ধমক দিয়ে বলে,  " আমি কোন প্রকার প্রফেশনাল গোয়েন্দা নই। গোয়েন্দাগিরি আমার পেশাও না। আমি শুধুমাত্র কোন জটিলতার শেষ জানতে চাই এ জন্যই রহস্য খুড়তে খুড়তে সামনে এগোনো হয়।তুমি আগে থেকেই জানতে আমি এদেশে কি জন্য এসেছি, অথবা আমার ধারণা তুমি ই জহির আংকেল কে বলে আমাকে এখানে এনেছ। তবে তোমার এবং তোমার বাবার ব্যাপারে আমাকে আমাকে কিছুই বলো নি।  আমি বেশ অনেকাংশ শিওর সেদিন যে  তোমার বাবার রুমে সুইসাইড করেছে সে তোমার বাবা নয়। এর পিছনে অনেক জটলা পাকিয়ে আছে।তুমিও জাকির আংকেলের মেয়ে লিন্ডা কিনা সে ব্যাপারেও সন্দেহ আছে। তুমি যা জানো,  যা কিছুর সম্মুখীন হয়েছ কিংবা তুমি যে ই হও না কেনো!আমার মাধ্যমেই যদি তোমার জটিলতা কাটাতে হয় তবে   আমাকে সব কিছু  খুলে বলো!!
এক নাগাড়ে কথাগুল বলে চোখেমুখে একরাশ বিরক্তি নিয়ে থামে বর্ণ।
লিন্ডা জবাবে শুধুমাত্র বলে- "তুমি বাবার ঘরেই থাক।আমি কাজের লোক কে বলে ঘর গুছিয়ে দিচ্ছি।ঐদিনের ব্যক্তিটি আমার বাবা নয় এটা অবিশ্বাস্য।হ্যাঁ। আমি লিন্ডা। আমি বাবার কাছেই বড় হয়েছি। তবে আমি বাবার আপন মেয়ে না। এ ব্যাপারে আমি রাতে তোমার সাথে কথা বলব। তুমি এখানেই থাক। আমি যা ই জানি আর না জানি,  একটা কথা জেনে রাখ বর্ণ, আমার ক্ষমতা শুধু মানুষের মন পড়া এবং স্বপ্নে আগাম অনেক কিছু দেখে ফেলার ভিতরেই আবদ্ধ। এর বাইরে আমি আর তেমন কিছুই জানিনা।তবে আমি আমার নিজের পরিচয় সম্পর্কে খুব সামান্য ও অদ্ভুত  কিছু জানি, তা বলব তোমাকে।"
বর্ণঃ - "প্রথম দিন তোমাকে বাম হাতে খবার খেতে দেখে অভ্যাস বা ওসিডি আক্রান্ত ভেবে নিয়েছিলাম। কিন্তু আমার মনে হয় বাম হাত এই জটিল রহস্যের খুব গুরুত্বপূর্ণ  একটা অংশ। তুমি যা জানো তা সবকিছু আমাকে খুলে বললে ভাল হয় লিন্ডা।
লিন্ডা আস্তে আস্তে সব কিছু জানাবে বলে সম্মতি জানিয়ে প্রস্থান করে।

কিছুক্ষন পরে কাজের বুয়া এসে প্রায়াত জাকির আংকেলের ঘরটা গুছিয়ে,  বর্ণের থাকার মত উপযোগী করে দিয়ে যায়।বর্ণ তাইসন কে ফোন করে আসতে বললে তাইসন চলে আসে  । তুরাণ এবং জহির আংকেল এর অভাব তাইসন কিছুটা হলেও কমাতে সক্ষম হয়েছে। প্যারাসাইকোলজির প্রাক্টিস এর জন্য প্রয়োজনীয় রিসোর্স এর অনেক কিছুই জোগাড় করা হয়েছে তাইসনের মাধ্যমে।তবে তাইসন নিজেও জানে না বর্ণ এগুলো দিয়ে কি করতে যাচ্ছে, বা চাচ্ছে।
সাইকিক পাওয়ার নিয়ে ঘাটতে ঘাটতে অনেকটা ই ভিতরে চলে যায় বর্ণ। এটা একটা লম্বা প্রক্রিয়া, মানু্ষ অনেকটা সময় ধরে সঠিক রিসোর্স নিয়ে অনুশীলন করতে করতে একসময় অলৌকিক কোন ক্ষমতা অর্জনে সক্ষম হয়। তবে জিওম্যান্সি,হিপনোটিজম এবং সাইকিক ক্ষমতা সম্পন্ন মানুষদের থেকে নিজেকে প্রটেক্ট করার উপায় ঠিকই শিখে নেয় বর্ণ। প্যারাসাইকোলজির উপর সে তার রিসার্চ চালাতে থাকে। তবে সেই রিসার্চ যে খুব তাড়াতাড়ি ফলপ্রসূ হবে এমন টা ভাবাও ঠিক নয়। যা করতে হবে নিজের বিচক্ষণতা এবং বুদ্ধি দিয়ে করতে হবে। আর প্যারাসাইকোলজিক্যাল প্রাক্টিস  এর ফলে অবচেতন মন থেকে যতটুকু সাহায্য পাওয়া যায় ততটুকু নিয়েই সামনে আগাতে হবে।
সারাদিন রুমের ভিতর লাইট নিভিয়ে রেখে,দরজা বন্ধ অবস্থায় কাটিয়ে দেয় বর্ণ। লিন্ডা এসে দুবার ডেকে যায় খাওয়ার জন্য। কিন্তু বর্ণের তেমন আশানুরূপ কোণ রিসপন্স সে পায় না।
সন্ধ্যা পার হয়ে যখন রাত ঢলে পরে তখন লিন্ডা বর্ণের একটা মেসেজ পায় রুমে যাওয়ার জন্য। একটু অবাক হয়েই সে বর্ণের রুমের দিকে পা বাড়ায়। পুরো রুম অন্ধকার। অন্ধকারের ভেতর থেকেই বর্ণের গলার আওয়াজ পায় লিন্ডা,
"লাইট জ্বালানোর প্রয়োজন নেই। দরজাটা লাগিয়ে এসে চেয়ারে বসো।"
- "কিন্তু চেয়ার কোথায় লাইট না জ্বালালে কিভাবে বুঝব?"
- " অনুমান করো।" পারবে।
দরজা লাগিয়ে দেয়ার পর রুমটা আরো গাড়ো অন্ধকার হয়ে যায়। লিন্ডা যেন রহস্যময় একটা জগতে প্রবেশ করেছে।খুব অদ্ভুত লাগতে থাকে তার।
লিন্ডা মনে মনেই বুঝতে পারে রুমের মাঝখানে চেয়ারটা পাতা আছে। হাতড়ে হাতড়ে সে একটা সময় সে চেয়ারের নাগাল পেয়ে যায়।
চেয়াড়টা হালকা একটু নড়ার শব্দ পেয়ে বর্ণ বলে, "বসো"।
লিন্ডা বসে পড়ে।
বর্ণ গম্ভীর স্বরে বলে, চেয়ারের সামনে রয়েছে  টেবিল।সেখানে হাত দিলে পিরিচের উপরে সবুজ একটা আপেল রাখা পাবে। পাশে তোমাদের  কিচেনে ব্যাবহৃত কালো বাটের ছুড়িটাও আছে। আপেলটা কাটো। লিন্ডা কিছুক্ষন পরে জবাব দেয়, "কেটেছি।"
- "কয় ভাগে কেটেছ?"
- দুই ভাগে।
- অর্ধেক খেতে থাক। খেতে খেতে  আমাকে তোমার ব্যাপারে বলো। তুমি কি জান।
লিন্ডা আপেলে একটা কামড় বসায়।
মুখে নিয়ে চিবুতে চিবুতে বলতে থাকে,
"আমার বয়স যখন মাত্র ৭, তখন আমি বুঝতে পারি, আমি আসলে অন্য ১০ টি সাধারণ মানুষদের মত নই।আমার বাম পাশের হাত, পাজর এবং পায়ের চামড়ার নিচে কোন প্রকারের হাড় নেই। বরং সেখানে রয়েছে ধাতব ফ্রেম। সোজা কথায় বলতে গেলে আমার দেহের বাম পাশের অংশ পুরোটাই একটা যন্ত্র, বা রোবট। আমি আমার পাস্ট নিয়ে কিছুইন জানিনা। জন্মের সময় এমন কিছু থাকলে ডাক্তার রা ধরতে পারত নিশ্চয় ই। কিন্তু আমি ছাড়া আমার বাবা মা বা কেউ ই এ ব্যাপারে অবগত ছিলেন না। আমি আস্তে আস্তে যখন বড় হতে থাকি,পৃথিবীর অন্যান্য মানুষ সম্পর্কে জানতে পারি এবং আমার সাথে তুলনা করতে থাকি, তখন অনেক বেশি পার্থক্য খুঁজে পাই। আমার এ হাত দিয়ে শুধু কঠিন কঠিন কাজ ই যে করতে পারি তা নয়,উচ্চ মাত্রার ইলেক্ট্রিক শকও দেয়া যায়। একবার আমাকে রাস্তায় একা পেয়ে দুজন ছেলে আমার উপর আক্রমণ চালায়  ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে হঠাৎ দুজনেই গুলিবিদ্ধ হয়। আমি নিজেও জানিনা আমার দেহের কোন পার্ট থেকে ফায়ারিং হলো। এরকম একটা অস্বাভাবিক আমি  কোথা থেকে আসলাম,সেটার উত্তর আমি  খুঁজেছি। তোমাকে আমি মিথ্যা বলেছি।  যে সাতজন মারা গিয়েছে, তারা আমার বয়ফ্রেন্ড ছিল বটে। কিন্তু আমি তাদের ইচ্ছে করেই বয়ফ্রেন্ড বানিয়েছিলাম, আমার নিজের ব্যাপারে লুকিয়ে থাকা সত্য উদঘাটন করতে। আমার ১২ জন বয়ফ্রেন্ডের সবাই ই কোন না কোন ভাল প্রফেশিনের সাথে জড়িত ছিল।কেউ ছিল ডাক্তার, কেউ রোবোটিক্স নিয়ে কাজ করে, কেউ  গবেষক,  কেউ জার্নাল এরকম।  আমি উত্তর খুঁজেছি তাদের কাছে। আমার ব্যাপারটা যেন তারা গোপন রাখে সেজন্যই আমি প্রথমে তাদের সাথে রিলেশন করি এবং পরে আমার ব্যাপারে সব খুলে বলি। এটাও বলি, তারা যেন এ কথাটা বাইরে না জানায়। কারণ আমি চাইনা আমার দেহটাকে কেটে কুটে এক্সপেরিমেন্ট করা হোক।কিন্তু তাদের সবাইকে আমি আমার দেহের এই অদ্ভুত বিষয়ের ব্যাপারে কিছুদিনের মাথায় ই তারা সবাই সুইসাইড করে। আমার ধারণায়া আমার বাবাও হয়ত আমার দেহের সম্বন্ধে জেনে গিয়েছিল। আর তাই সেও......
 সব থেকে মজার বিষয় মানুষের দেহের মত আমার দেহের ধাতব অংশ গুলো ও বৃদ্ধি পাচ্ছে। অর্থাৎ আমি যখন ৭ বছরের ছিলাম,তখন আকারে খুবই ছোট ছিলাম। কিন্তু এখন অনেক বড় হয়েছি।" আমার হাত পায়ের নিচে থাকা যান্ত্রিক অংশ গুলো ও বড় হয়েছে।
বর্ণ কিছুক্ষন চুপ থেকে জিজ্ঞেস করে।-"আপেলটার স্বাদ কেমন?"
লিন্ডা - টক,মিষ্টি এর মাঝামাঝি।
বর্ণঃ বাম হাত দিয়ে খাচ্ছ কেন? ডান হাতে খাও।
লিন্ডাঃ আজব!!অন্ধকারে দেখলে কিভাবে?
বর্ণঃ দেখি নি। ধারণা। তারপর বল, জিওম্যান্সি নিয়ে রিসার্চ কেন?
লিন্ডাঃ ইটালী কালো জাদুর জন্য বিখ্যাত, জানো তো!! যখন দেখলাম আমি কোন উপায় পাচ্ছিনা নিজের পরিচয় জানার  তখন এই জিওম্যান্সির সাহায্য নেই।প্রায় দেড় বছর ধরে জিওম্যান্সি প্রাক্টিস করার পর আমি যা অর্জন করেছি, সেটা হলো স্বপ্নে মানুষের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে দেখে ফেলি কিংবা সে কি ভাবছে তা জানতে পারি। তাও সব সময় যে সঠিক হয় তাও না।অধিকাংশ সময় ই হুবুহু মিলে যায়।
বেড সুইচ বর্ণের হাতের কাছেই ছিলো। সুইচ টিপে লাইট জ্বালিয়ে দেয় বর্ণ।
লিন্ডা একটা বিশাল ধাক্কা খায়,
কোথায় টেবিল, কোথায় চাকু কোথায় ই বা আপেল, তার হাত তো শূন্য। চেয়ারের সামনে কিছুই নেই। অথছ সে মুখের ভিতর এখনো আপেল খাওয়ার স্বাদ পাচ্ছে। যে হাতে আপেল ছিল লাইট জ্বালানোর আগেও সে অনুভব করেছে তার হাতে অর্ধেক আপেলের খাওয়া অংশ। আলো জ্বললো, হাতের দিকে তাকাতেই দেখে সেখনে কিছুই নেই।একরাশ  ভয় নিয়ে বর্ণের দিকে তাকায় লিন্ডা
বর্ণ চোখ বন্ধ করে আছে।
" লিন্ডা, তুমি তোমার দেহের সিক্রেট সম্পর্কে আমাকে আজ জানালে, তাহলে আমিও হয়ত সুইসাইড করতে যাচ্ছি। "
তুমি এবার আসো।
লিন্ডা বুঝতে পারছে না এখন তার কি করা উচিৎ। সে বর্ণকে একা ছাড়তে নারাজ। তবে বর্ণ চাইছে না লিন্ডা কিছুতেই তার রুমে থাকুক। তাদের মাঝে এই নিয়ে কথা কাটাকাটি হয় এবং লিন্ডা এক পর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে পরে। সে পুলিশকে ফোন করতে চায়। কিন্তু বর্ণ লিন্ডাকে ঠান্ডা মাথায় আশ্বস্ত করে, এরকম কিছুই হবেনা। বরং খুব শীঘ্রই সুইসাইড এর রহস্য উদঘাটন হতে চলেছে।
.
.
.


চরম উৎকন্ঠায় রাত পার করছে লিন্ডা। একটু পর পর ই গিয়ে দেখে আসছে বর্ণ সুইসাইড করে ফেলল কিনা। কিন্তু তেমন কিছুই হচ্ছে না। একদিকে দুশ্চিন্তা আরেকদিকে চিন্তা, চিন্তাটা হলো আপেলের ব্যাপারে।আপেলের অস্তিত্ব না থাকা সত্ত্বেও সে আপেল কাটল কিভাবে!! ইভেন ছুড়ি কিংবা টেবিল কিছুই ছিল না। বর্ণ লাইট নিভিয়ে দিয়েছে।কিন্তু টেবিল লাইট জ্বালিয়ে বইয়ের পাতা উল্টিয়ে কি কি যেন পড়ছে গভীর মনোযোগ দিয়ে। লিন্ডা আস্তে আস্তে পা টিপে বর্ণের রুমে প্রবেশ করে। কিন্তু বইয়ের পাতায় বর্ণের একাগ্রতা দেখে তাকে ডাকার সাহস পায় না।
.

" বসো লিন্ডা"
.

শব্দটা শুনে চমকে উঠে লিন্ডা। কারণ দরজা খোলা ছিল। লিন্ডা এতটাই নি:শব্দে প্রবেশ করেছে যে বর্ণের টের পাওয়ার কথা না। এমন কি সে চেয়ার থেকে মাথাও ঘুরায় নি। সামনে নেই কোন আয়না ও। সুতরাং এমন  অনাকাঙ্ক্ষিত সম্বোধন এ যে কেউ ই চমকে উঠবে।  কোন প্রশ্ন করতে হয়নি লিন্ডার, বর্ণ নিজ থেকেই বলল,
লিন্ডা, আমি তোমার মন পরীক্ষা করছিলাম,
শুনতে অদ্ভুত হলেও সত্য এটাই যে তুমি যদি তখন আমাকে মিথ্যা বলতে তবে আপেল খেতে পারতে না। এমনকি তোমার সামনে আপেল টেবিল কিংবা ছুড়ি, কিছুরই অস্তিত্ব পেতে না। কারণ মিথ্যা বলতে গেলে মস্তিষ্ককে বিভিন্ন বিষয়ে চিন্তা করতে হয়। সত্য কথা বললে ব্রেইণের তেমন পরিশ্রম করতে হয়না। এছাড়াও আমি বুঝেছি, আমার  প্রতি রয়েছে তোমার অগাধ বিশ্বাস ও নির্ভরতা, আর তোমার মন? খুবই সচ্ছল। এজন্যই আমি যখন যা বলেছি, তুমি তখন তা এত গভীরভাবে বিশ্বাস করেছ যে তুমি বাস্তবিক ভাবেই তা অনুভব করতে পেরেছ। অবশ্য এজন্য আমার ব্রেইণকেও একটু প্রেসার দিতে হয়েছে, যাতে তোমার ব্রেইণ সত্যিকারেই আপেল ছুড়ি এবং বাটি অনুভব করতে পারে। খেয়াল করে দেখবে আমি কিন্তু শুধু আপেল বলিনি। বলেছি, সবুজ আপেল, আবার শুধু ছুড়ি বলিনি, বলেছি, তোমাদের কিচেনের কালো বাটের ছুড়ির কথা, কারণ তোমার মস্তিষ্ক যাতে খুব ভালোভাবে চিন্তা করে জিনিসগুলোকে কল্পনায় আকৃতি দিতে পারে।
আর এখন তোমার নিশ্চয় ই মনে হচ্ছে, তুমি রুমে ঢুকেছ, আমি টের পেলাম কিভাবে!! তুমি যদি মনোযোগ দিয়ে চেষ্টা করো, দেখবে একটা মাছি উড়ে গেলেও সেটার শব্দ তোমার কানে আসবে। এগুলো হলো সাইকিক আর্ট।লিন্ডা তার উত্তর পেয়ে আবার নি:শব্দেই প্রস্থান করে।বর্ণ মুচকি হেসে পড়ায় মনোযোগ দেয়।
.
.
বর্ণের বাসায় প্রায় ই আসে তাইসন। অদ্ভুত ভাবে তাইসন এমেরিকান সিক্রেট আর্মি ব্লাক ক্যাটসদের ব্যাপারে অনেক তথ্য দেয়। তারা কোথায় কি থাকে, কিভাবে ইটালি আসে এগুলো.. বর্ণর ব্লাক ক্যাটস দের নিয়ে ভাবার সময় নেই।তবুও সে তাইসনের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনছে এমন একটা ভাব করে।বর্ণের মনে তখন অন্য চিন্তা।
কাল রাতে  লিন্ডা পায়চারী করতে করতে সোফায় ঘুমিয়ে যায়। বর্ণ রুমের লাইট জ্বালিয়ে বুক শেলফে তার বই গুলো গুছিয়ে রাখার সময় ফ্লোরে একটি অর্ধ বৃত্তাকার দাগ দেখতে পায়।যেটা শেষ হয়েছে বুক শেলফের নিচের খুড়ার সাথে গিয়ে। চট করে ব্যাপারটা মাথায় আসে বর্ণের। এই শেলফের এক কোনা টেনে  হয়ত সরানো হয়। যার কারণে ফ্লোরে এমন অর্ধবৃত্ত দাগ।
বর্ণ খুব সাবধানে শেলফের এক কোনা ধরে টান দেয়, খুব শক্ত হয়ে আছে। এভাবে টানলে হয়ত সাউন্ড হবে ।তাই  আস্তে আস্তে সে বই গুল নামিয়ে  বিছানার উপরে রাখতে থাকে। এক পর্যায়ে শেলফ টা টেনে সরানোর মত হালকা হয়ে যায়।
মনের ভিতর একটা উৎসাহ নিয়ে শেলফটার এক পাশ দেয়ালের সাথে ঘেঁষে থাকা অবস্থা থেকে ফাঁকা করে।
তারপর ই সেখানে আবিষ্কার করে একটা ওয়াল লকার। শেলফ টা আরো ফাঁকা করে লকারের সামনে বসে যায়। সে, ৪ ডিজিটের পাসোয়ার্ড দিতে হবে  কিন্তু পাসোয়ার্ড কি হতে পারে,পাসোয়ার্ড ভুল দিলে এলার্ম বেজে উঠা অস্বাভাবিক কিছুই নয়।তাই রিস্ক নেয়াটা একদম ই ঠিক হবেনা।
তাইসন এখন যত বক বক ই করুক না কেন বর্ণের মন রয়েছে সেই লকারের দিকে।তাইসন কে পরদিন একটা টর্চ লাইট নিয়ে আসতে বলা হয়। সেটা যেন অবশ্যই খুব পাওয়ারফুল এবং যথাসম্ভব ছোট হয়।তাইসন তার গল্পগুজব করার পরে নিয়ে আসবে বলে সম্বোধন করে।বর্ন পরের দিন সকালে ই বাসা থেকে বের হয়ে যায়। স্র এতটুকু শিওর বাসার বাইরে যতক্ষন আছে ততক্ষন সে নিরাপদ। কারণ সবাই ই সুইসাইড গুল করেছিল নিজ নিজ বেড রুমে। এ দিক থেকে একটু শান্তি পায় বর্ণ।কোন রকম দিন কেটে গেলে রাত হলেই বাঁচা যায়। তাইসন লাইট নিয়ে বর্ণের বাসায় গেলে তাকে না পেয়ে লাইট টি লিন্ডার কাছে দিয়ে চলে আসে।বর্ণ অনেক খুঁজে একটা ম্যাগনেফাইং গ্লাস জোগাড় করে। আজ রাতে যেটা ভীষণ কাজে দিবে। ম্যাগনেফাইং গ্লাস হাতে বর্ণর নিজেকে নিজের কাছে আসল গোয়েন্দার মতই লাগতে থাকে।
এদিকে রাত হয়ে এল বলে, লিন্ডা বর্ণকে ফোন দেয়। বর্ণ ফোন রিসিভ না করে কেটে দেয়।
অত:পর লিন্ডাকে ফেসবুকে একটা ছবি সেন্ড করে, যেটা ছিল একটা চিরকুটের ছবিম এবং ছবিটায় মিরর ওয়ার্ড এ লেখা। মিরর ওয়ার্ড হচ্ছে এমন শব্দ  যা পড়তে হলে আপনাকে শব্দগুলো আয়নার সামনে ধরতে হবে। লিন্ডা আয়নার সামনে ধরা ছাড়াই লেখাটা পড়তে পারে ও মানে বুঝতে পারে। সে বাসার মেইন দরজা খুলে দেয় প্রথম। তারপর বাসার সব লাইট অফ করে দেয়।  কিছুক্ষন পর বর্ণ বাসায় ঢুকে চুপচাপ নিজের রুমে গিয়ে শুয়ে পরে। লিন্ডাও বর্ণের প্লান জানত, সে আগেই ডিনার করে নিয়েছিল, কিন্তু বর্ণের পুরো প্লানটা লিন্ডাকে বলেনি সে। বর্ণ  বাসায় আসার পরে  লিন্ডা শুয়ে পরে। সজাগ থাকতে থাকতেই এক সময় ঘুমের কোলে ঢলে পরে সে।
কিন্তু বর্ণ সজাগ থাকে।
সে সজাগ থেকে লিন্ডার ঘুমের অপেক্ষা করতে থাকে। যখন লিন্ডার ঘুমিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে বর্ণ নিশ্চিত হয়,তখন সেশেলফের উপরের বই গুল নামাতে থাকে,
শেলফ সরিয়ে লকার বের করে। ম্যাগনেফাইং গ্লাসের উপর টর্চ মেরে লাইটের আলো কেন্দ্রীভূত করে লকার এর কী বোর্ড এ ফেলে সে।স্পষ্ট দেখতে পায়
দুটো বটন মোটামুটি পরিষ্কার,  বাকিগুলতে ধুলো জমে আছে। বর্ণ পদিষ্কার বটনের নম্বর গুল তুলে নেয়, জিরো এবিং ফোর। এ দুটো সংখ্যা মিলিয়ে মিশিয়ে টোটাল পাসোয়ার্ড টা। তাহলে এটা দিয়ে মোট 8 টি পাসোয়ার্ড বানানো যায়, যা হলো 0044,4400,0404,4040,4440,0004,0444,4000.
কিন্তু এতগুলো পাসোয়ার্ড দিয়ে দেখতে গেলে সমস্যা। ম্যাগনেফাইং গ্লাসে লাইট মেরে ভাল ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে থাকে সে, সবচেয়ে পরিষ্কার বটন হচ্ছে ০,
তার মানে সে সর্বপ্রথম ০ চাপত, বটন এর সব ধুলো তার হাতে লেগে যেত। তারপর অন্যান্য বটন প্রেস করত। কিন্তু হাতে ময়লা লেগে যাওয়ায় বাকি বটন গুল অতটা চকচক করত না। সে হিসেবে ০ প্রথম ইউজ করলে পাসোয়ার্ড এর সম্ভাব্য সংখ্যা নেমে ৪ এ চলে আসে। এরপর লিন্ডা ও জাকির সাহেবের পারসোনালিটির উপর বেজ করে ফাহাদ চিন্তা করে, পাসোয়ার্ড কত হতে পারে  বার বার তার মনে একটাই উত্তর আসে। আর সেটা হলো,
0404,
বেশ। এবার কাঁপাকাঁপা হাতে লকারের বটন গুলো প্রেস করে ফেলে সে।
ক্যাঁচ করে একটা শব্দ হয়ে আস্তে লকারটি খুলে যায়। মনে একটা আনন্দ দোল খেলে যায় বর্ণের।সে হাসিমুখে ভিতরে লাইট মারে,সেখানেও
একটা ছোট লাইটের মত জিনিস। কিন্তু সম্পূর্ন কালো।
বর্ণ জিনিসটাকে বের হরে হাতে নেয়। হাতলে থাকা বাটন টা দাবায়, আর তাতেই ঘটে এক আশ্চর্য ঘটনা। তার জ্বলতে থাকা ছোট টর্চ লাইটের আলোটা পুরোপুরি অন্ধকার হয়ে যায়।ঘটনাটি কি হয়েছে তা বুঝে উঠতে না পারায়, পুনরায় অদ্ভুত জিনিসটির বাটন দাবায়। আর সাথে সাথেই তার অন্য টর্চ টার আলো জ্বলে উঠে।
 এটা আবার কেমন জিনিস!! শেলফ টা ঠিক করে বই গুল গুছিয়ে রেখে লাইট অন করে বর্ণ, তারপর লকার থেকে পাওয়া  টর্চের মত জিনিসটির অন বাটন দাবায় সে। সাথে সাথে তার রুমের একাংশ অন্ধকারে ছেঁয়ে যায়।
এবার  বর্ণের কন্সেপ্ট ক্লিয়ার হয়ে যায়। অন্ধকারে টর্চ মারলে যেমন সেখানটা আলোকিত হয়ে যায়,লকার থেকে পাওয়া টর্চের মত বস্তুটা অন করলে ঠিক তেমন ভাবেই আলোর জায়গায় অন্ধকার হয়ে যায়। অর্থাৎ টর্চের বিপরীত জিনিস। বর্ণ এটার নাম দেয় এন্টি টর্চ লাইট।
সাধারণ টর্চলাইট অন্ধকার দূরীভূত করে, আর এন্টি টর্চ লাইট  আলো দুরীভূত করে নির্দিষ্ট একটা অংশ অন্ধকারে আচ্ছন্ন করে দেয়।এদিকে বর্ণের খেয়াল নেই তার রুমের দরজাটা খোলাই ছিল। হঠাৎ সে বুঝতে পারে কত বড় একটা ভুল ইতিমধ্যেই করে ফেলেছে।
কোন কিছু চিন্তা করার আগেই বর্ণর চোখের সামনে তৈরি হয়ে যায় একটি মাঝারি আকারের ব্লাকহোল।শুরু হয় প্রচন্ড বাতাস। বাসার সব কিছু লণ্ডভণ্ড হয়ে বাতাসের সাথে সে ব্লাকহোলের ভিতর ঢুকে যেতে থাকে।বর্ণ ও বাতাসের চাপে প্রায় অর্ধেক ঢুকে যায় ব্লাক হোলের ভিতরে।
কিন্তু হঠাৎ করেই জানালার গ্রিল বর্ণের বাগে চলে আসায়, সে খপ করে ধরে নিজেকে বাতাসের চাপ থেকে কোন রকমের রক্ষা করে। কিন্তু এর পর ঘটে আরো ভয়ানক ঘটনা। ব্লাকহোলের ভিতর থেকে বের হয়ে আসে দুটি হাত। যে হাতের একটা ছিল রোবটের এবং অন্যটি মানুষের।বর্ণের একটি পা ধরে খুব জোড়ে টান দেয় হাত দুটি......
.
.
.
পরদিন সকাল।
লিন্ডা চা দিতে বর্ণের রুমে আসে। এসেই দেখতে পায় ঘর প্রচন্ড পরিমান এলোমেলো হয়ে আছে। চেয়ারের উপর বসে আছে বর্ণ। কিন্তু তার মাথাটা টেবিলের উপরে রাখা। সেটা বর্ণের মুন্ডুহীন দেহের দিকে তাকিয়ে আছে।মেঝেতে রক্তের বন্যা। দেয়ালে রক্ত দিয়ে লেখা কিছু অদ্ভুত নম্বর, আর তায়ার নিচেই লেখা, its pleasant to die. :)
চলবে.....
লেখক: হাসিবুল ইসলাম ফাহাদ।
চলবে.....

No comments

Theme images by RASimon. Powered by Blogger.